আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে পারে বিএনপি।

আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে পারে বিএনপি

0
36

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিলের ওপর শুনানিতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র হট্টগোল হয়েছে। গতকাল বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেলের শুনানিকালে আইনজীবীদের বাদানুবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রধান বিচারপতি এজলাস থেকে নেমে যেতে উদ্যত হন। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আগামী মঙ্গলবার রায়ের জন্য ধার্য করেন। এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার জামিন না হলে আন্দোলনের ধরন পাল্টাতে পারে বিএনপি। তিনি কারান্তরীণ থাকবেন ধরে নিয়ে কৌশল পরিবর্তন করে আন্দোলন জোরদারের চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে বলে দলের নীতিনির্ধারকরা জানান।বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, দুই দিনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করলেও উপযুক্ত যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি। সবকিছু বিবেচনায় এনে আদালত তাদের দলীয় নেত্রীর জামিন দেবে বলে তাদের প্রত্যাশা। যদিও জামিনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবীদের বক্তব্য দলীয় নেতা ও আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্ন শঙ্কাও তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি করণীয় ঠিক করতে গতকাল বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন।

বিএনপির উচ্চপর্যায়েরসূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়াকে আদালত জামিন দিলে একে বিজয় হিসাবে ধরে রাজপথে থাকবে। আর জামিন না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে দলটি। আগামী দিনের আন্দোলন কর্মসূচির ধরনে পরিবর্তন আনা হবে। সম্প্রতি নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আমরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণের স্বার্থে আন্দোলনের ধরনও পরিবর্তিত হতে পারে।জিয়া অরফানজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আপিলের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি ছিল গতকাল। দুদক আইনজীবী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের দুটি বক্তব্য নিয়ে আদালতে হইচই শুরু করেন বিএনপি আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা চিৎকার শুরু করলে দুই পক্ষের বাদানুবাদে আদালতে তীব্র হট্টগোল হয়।এদিন শুনানিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, হাইকোর্ট জামিন দিলে, ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ মামলায় আপিল বিভাগ সেই জামিনে হস্তক্ষেপ করেনি। শুধু বাংলাদেশই নয়, এই উপমহাদেশের এমন একটা নজির দেখাক যেক্ষেত্রে কম সাজায় হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ তা বাতিল করেছে। বিচারাধীন আপিলে জামিন দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র হাইকোর্টের। পরে এই চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আদালতও দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান। কিন্তু দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ প্রশ্নের কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি।বিএনপির সাবেক এমপি মশিউর রহমান ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের জামিনের উদাহরণ টেনে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, অদৃশ্য দ্রুততার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মামলা নিষ্পত্তি করতে চাচ্ছে। এই মামলাকে অন্য মামলার থেকে আলাদা করে এনে দ্রুত বিচার করার চেষ্টা হচ্ছে। আমরা মানি বা না মানি গোটা রাষ্ট্রকে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এটা এক ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা। বিচার প্রশাসনে হস্তক্ষেপের শামিল। সারাদেশেই আইনজীবীদের ধারণা কোন মামলায় জামিন হবে কী হবে না, সেটা নির্ভর করছে বিশেষ ক্লিয়ারেন্সের ওপর।অ্যাটর্নি জেনারেল এই বক্তব্যের আপত্তি জানিয়ে বলেন, এটা সত্য নয়। প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি তো বলছি। আপনি কেন কথা বলছেন? এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, খালেদা জিয়াকে নির্জন পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে রাখার পর সেটাকে এখনো কারাগার ঘোষণা করা হয়নি। আমার বলার পর হয়তো সরকার একটা ফাইল তৈরি করে ফেলবে। এভাবেই স্বেচ্ছাচারিতা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধিতে রিভিশন আবেদন করা হয়েছে। ভিন্ন উদ্দেশ্যে মামলাটা আনা হচ্ছে। এটা অপ্রত্যাশিত। এ অবস্থায় হাইকোর্ট তার বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, কম সাজা সব বিবেচনায় যথাযথভাবেই জামিন দিয়েছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং বিচারের স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত রাখতে এই জামিন বহাল রাখা হোক।তিনি বলেন, নি¤œ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে এটা অর্থনৈতিক অপরাধ। এজন্য শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থনৈতিক অপরাধ হলে তার বিচারের জন্য দেশে মানি লন্ডারিং আইন রয়েছে। দ-বিধির ৪০৯ ধারায় এ অপরাধের বিচারের সুযোগ নেই। এই মামলায় অর্থনৈতিক অপরাধ উল্লেখ করার মধ্য দিয়ে নি¤œ আদালত প্রমাণ করেছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজা দিয়েছে।প্রথম দিনের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের ভারতীয় সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ও লালুপ্রসাদ যাদবের শাস্তির বিষয়টি আদালতে তুলেছিলেন। এ ব্যাপারে গতকাল আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, জয়ললিতার চার বছর সাজা হয়েছিল। সাত দিনের মধ্যে সুপ্রিমকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন। আর লালুপ্রসাদ যাদবের ৫ বছরের সাজায় দুই মাসের মাথায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট জামিন দিয়েছেন। সুতরাং খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখা হোক।অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন শুনানিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলা হাইকোর্ট বাতিল করেছে তার বিরুদ্ধে দুদক এবং রাষ্ট্র কেউই তো আপিল করেনি। শুধু একটা নয়, শেখ হাসিনা, মোহাম্মদ নাসিমসহ সরকারদলীয় অনেক নেতার বিরুদ্ধেই মামলায় হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্র আপিল করেনি। কিন্তু এই মামলাটা সরকার এবং দুদক বেছে নিয়েছে। দুদক এবং সরকার যখন এক হয়ে আপিল করেছে, তখন আমাদের মাঝে আতঙ্ক এসেছে ন্যায়বিচার নিয়ে।তিনি খালেদার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, সরকার নিজেই স্বীকার করেছে খালেদা জিয়া অসুস্থ। এ কারণে তাকে পাঁচবার নি¤œ আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। কারাগার থেকে প্রতিবেদন দিয়ে বলা হয়েছে, তাকে আদালতে হাজির করার উপযুক্ত নয়। এ কারণে আপনাদের সামনে সুযোগ এসেছে, এরকম একটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা আপিলের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার।ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নি¤œ আদালতের দেওয়া রায়ে কে মূল অভিযুক্ত আর কে সহযোগী অপরাধী তা উল্লেখ করা হয়নি। রাজনীতির কারণে মামলাটি এই পর্যন্ত এসেছে। খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন না হলে, মামলাটা এ পর্যায়ে আসত না। সাজা দিতে হবে, সেজন্যই সাজা দিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পিক এন্ড চুজ করে এ মামলাটি দ্রুত শুনানি করতে চাচ্ছেন।ব্যারিস্টার মওদুদ আরও বলেন, আমাদের একজন আইনজীবী এম ইউ আহমেদ। তাকে আপনারা জামিন দেননি। এরপর সে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। আজ যদি খালেদা জিয়াকে জামিন না দেন, উনার যদি কিছু হয়, তার দায় সরকার আপনাদের ওপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে।এরপর পাল্টা যুক্তি তুলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, মশিউর রহমানের জামিনের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট আলাদাভাবে কোনো যুক্তি না দেখানোয় আপিল বিভাগও কোনো যুক্তি দেখাননি। তখন আদালত বলেন, আমরা তো জামিন বহাল রেখেছি। জবাবে খুরশীদ বলেন, আপনারা সেখানে তো কোনো কারণ দেখাননি। আর দুদক কোনো পক্ষপাতিত্ব করছে না। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ক্ষেত্রেও আপিল করেছে। নাজমুল হুদার মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাকে জামিন দিয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা যেসব মামলার উদাহরণ দিয়েছে, প্রত্যেকটির ক্ষেত্রেই দেড় থেকে দু’বছর কারাভোগ করেছেন। এ কারণেই আদালত তাদের জামিন দিয়েছেন। তখন আদালত বলেন, আপনার বন্ধু (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন আর আপিল বিভাগ সেটা বাতিল করেছেÑ এমন নজির নেই।দুদক আইনজীবী নজির আছে বললেও একটিও উদাহরণ দেখাতে না পারায় হইচই শুরু হলে আদালত বলেন, এভাবে চললে আদালত চালাতে পারব না। মশিউর রহমানের মামলায় যদি কোনো যুক্তি না দেখানো হয়, তাহলে আপনারা কেন রিভিউ করেননি? জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, যুক্তি নাই বলে রিভিউ করিনি। তখন আদালত বলেন, এমনও অনেক মামলা আছে, যেখানে কোনো যুক্তি নেই, তারপরও রিভিউ নিয়ে আসেন। কিন্তু এখানে কেন আনেনি? তখন খুরশীদ আলম বলেন, মশিউর রহমানের মামলা আর খালেদা জিয়ার মামলা এক নয়। দুটির বিষবস্তু ভিন্ন। আদালত বলেন, আপনি বলতে চাচ্ছেন কী? এ রায় কোন রায় নয়? জবাবে খুরশীদ আলম বলেন, তা বলছি না। অবশ্যই এটা রায়। কিন্তু ব্যাখ্যা সংবলিত নজির না হলে আমরা সেটা রেফার করি না।আদালত বলেন, এ মামলায় নি¤œ আদালতের বিরুদ্ধে কেন রিভিশন আবেদন করেছেন। খুরশীদ বলেন, সাজা বাড়াতে। আদালত বলেন, সাজা বৃদ্ধি চেয়েছেন কেন? খুরশীদ আলম বলেন, মূল (প্রিন্সিপাল) আসামি তাই। আদালত বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ে মূল আসামি হিসেবে কোনো ফাইন্ডিংস আছে? আপনি বারবার মুখে বলছেন, এখন পর্যন্ত কোনো নজির দেখাতে পারেননি। আপনারা একটা বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। সেখানে মূল আপিলের নিষ্পত্তি হোক। তা না হলে মামলার নথি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।এরপর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মশিউর রহমানের মামলা এবং খালেদা জিয়ার মামলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রের টাকা চুরি করা হয়েছে। তখন সমস্বরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানান। আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, যুক্তি খ-ন না করে এভাবে সব বলতে থাকলে আমাদের আবার বলতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রের টাকা নিয়ে গিয়েছে-এটা বলতে পারব না। এটা আমাকে বলতে হবে। এ সময় আরও তীব্র চেঁচামেচি শুরু হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষের অনেক আইনজীবী এজলাস কক্ষে দাঁড়িয়ে পড়েন। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলও সরকারি আইন কর্মকর্তাদের উঠে দাঁড়াতে হাত দিয়ে ইশারা দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হইচই করে আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি উত্তেজিত না হয়ে জবাব দিন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মেরিটে যাব না। হইচই চলতে থাকায় অ্যাটর্নি বলেন, আমার পক্ষে এ অবস্থায় শুনানি করা সম্ভব নয়। কাল শুনানি হোক।এ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল তার আইন কর্মকর্তাদের উত্তেজিত হওয়ার জন্য ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাদের উঠতে ইশারা দিয়েছেন। এ সময় তুমুল হইচই চলতে থাকে। প্রধান বিচারপতি এজলাস থেকে নামতে উদ্যত হন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দলবল নিয়ে এসেছে আদালতকে চাপ সৃষ্টির জন্য। প্রধান বিচারপতি বলেন, উভয়পক্ষের আইনজীবীরা এমন করলে কোর্ট চালানো সম্ভব নয়। পরে সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।পরিস্থিতি শান্ত হলে শেষ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তিনটি মামলায় জামিন হয়েছে, কিন্তু আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেনি। মোহাম্মদ নাসিম, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও নাজমুল হুদা-সবার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ রায় দিয়ে জামিনের কারণ উল্লেখ করেছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলার ক্ষেত্রে মাত্র চারটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবতা হলো এটা প্রধানমন্ত্রীর এতিম ফান্ড। এটা বেসরকারি বা ব্যক্তিগত ট্রাস্ট নয়। তাই মামলা করে দুদক যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই রোগ নিয়েই তিনি রাজনীতি করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রিত্ব করেছেন। এটা তার সহনীয়। এ যুক্তিতে জামিন হতে পারে না। আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় এভাবে জামিন হতে থাকলে দেখা যাবে জামিন নিয়ে চলে যাবে। সাজা ভোগ করতে হবে না। এভাবেই ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা পরিত্যক্ত হয়ে যাবে। এরপর শুনানি শেষ করে আদালত বলেন আগামী মঙ্গলবার রায়।গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানিকালে বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘হাইকোর্টে বিএনপির চেয়ারপারসনের মামলার শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে। সেখানে দ্রুত শুনানি হোক। আপিলে তিনি খালাস পেলে পাক।’অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্য থেকে বিএনপিতে শঙ্কা আরও বেড়েছে। বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, সরকার যেহেতু রাজনৈতিক উদ্দেশে খালেদা জিয়াকে বন্দি করছে, সেহেতু সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হলে বেগম জিয়া মুক্তি পাবেন না।জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, আমরা এখনও আশা করি আদালত নিরপেক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে জামিন দেবে। কারণ, এই মামলাটি একটি ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক উদ্দেশে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা ও রায় দেওয়া হয়েছে।জানা গেছে, রমজানের সময় বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন থেমে থাকবে না। সীমিত পর্যায় হলেও চলবে। এছাড়া ইফতার রাজনীতিও চালাবে দল। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ কয়েকটি ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here