যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে…

বর্তমানে অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহারের জন্য ১১০ কোটি মার্কিন ডলার গুনতে হয়। নিজস্ব হলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ভাড়া দিয়ে উল্টো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার কথা ভাবছে সরকার। কোম্পানির এমডি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের পেছনে যে খরচ হচ্ছে, নিজেদের হলে তা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ভাড়া দিয়ে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করতে পারবে বাংলাদেশ। এ প্রকল্পের জন্য আমরা যে বিনিয়োগ করছি, তা আট বছরের মধ্যেই উঠে আসবে বলে আশা করা যায়। এর পর আমরা লাভের দিকে যাব।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মূলত একটি কমিউনিকেশনস ও ব্রডকাস্টিং স্যাটেলাইট। কৃত্রিম উপগ্রহটি টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও বেতারসহ ৪০ ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেরিস্ট্রিয়াল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা বহাল থাকা, পরিবেশ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ই-সেবা নিশ্চিত করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

দুর্যোগকালে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা ভেঙে পড়ে। টেলিযোগাযোগ সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মানুষ। তখন উদ্ধারকাজ ও ত্রাণসহায়তা পৌঁছতে প্রচুর বেগ পেতে হয়। এমন আপদকালে এ স্যাটেলাইটের সহায়তায় বিশেষ টেলিফোন সেটের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা সম্ভব হবে। এতে সঠিক সময় তথ্য সংগ্রহ করে উদ্ধার কার্যক্রম এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠানো সহজ হবে, বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ। পাশাপাশি বিশেষ মেডিক্যাল টিমের সহায়তায় টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দেওয়া যাবে সঠিক চিকিৎসাসেবা। সেই সঙ্গে ব্যাপকভাবে স্যাটেলাইটে মহাকাশ বা জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা, আবহাওয়ারপূর্বাভাস, হারিকেন-ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস, টিভি বা রেডিও চ্যানেল, ফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগপ্রযুক্তি, নেভিগেশন বা জাহাজের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা, পরিদর্শন-পরিক্রমায় (সামরিক ক্ষেত্রে শত্রুর অবস্থান জানার জন্য) এটি দারুণ কাজে আসবে।

এ ছাড়া দূরসংবেদনশীল তথ্যে মাটি বা পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে, মহাশূন্য এক্সপ্লোরেশন, ছবি তোলার কাজে, গ্লোবাল পজিশনিং বা জিপিএস, গামা রে বার্স্ট ডিটেকশন করতে, পারমাণবিক বিস্ফোরণ, আসন্ন হামলা ছাড়াও স্থল সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা পেতে, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিভিন্ন খনি শনাক্তকরণ, ডিজিটাল ম্যাপ তৈরিসহ অত্যাধুনিক অনেক কাজেই সুফল পাবে বাংলাদেশ।

কৃত্রিম উপগ্রহটি ব্যান্ডউইথের মাধ্যমে ছিটমহলবাসী এবং দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবে। ফলে যেখানে ইন্টারনেট নেই, সেসব এলাকায় এ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সংযোগ দেওয়া যাবে। সম্প্রতি দুর্গম এলাকা সন্দ্বীপে পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

কৃত্রিম উপগ্রহটি ব্যান্ডউইথের মাধ্যমে ছিটমহলবাসী এবং দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবে। ফলে যেখানে ইন্টারনেট নেই, সেসব এলাকায় এ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে সংযোগ দেওয়া যাবে। সম্প্রতি দুর্গম এলাকা সন্দ্বীপে পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

(দুরন্ত নিউজ রিপোর্টের)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here