ফেলানী হত্যার ৮ বছর:ন্যায়বিচার পায়নি পরিবার!

0
49

অনলাইনডেস্ক: ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বা‌হিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিহত কু‌ড়িগ্রামের কিশোরী ফেলানীর মৃত্যুর ৮ বছর আজ (সোমবার)। দেশ-বিদেশে সমালোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ভারতের উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালেও এখনও ন্যায়বিচার পায়নি তার পরিবার। ন্যায়বিচারের আশায় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে দুটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। যা এখনও বিচারাধীন। এখনো মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচারের আশায় রয়েছে ফেলানির প‌রিবার।এর আগে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দুই দফা বেকসুর খালাস দেয় বিএসএফ’র বিশেষ আদালত।বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালে ভারতের আইনজীবী অপর্ণা ভাট ও মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট করেন নুরুল ইসলাম। এখন ন্যায়বিচারের আশায় তাকিয়ে আছেন আদালতের দিকে।
ফেলানী হত্যার বিচারসহ সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে তার বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ‘বিএসএফের গু‌লিতে আমার মেয়েটা মরে গেল। এ হত্যাকাণ্ডের আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার পাইনি। হত্যাকারী অমিয় ঘোষের সাজা হয়নি। তাদের (বিএসএফ) সাজানো আদালতে অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস পেয়ে গেলো। অনেক আশা নিয়ে ভারতের উচ্চ আদালতে বিচার চেয়েছি। আমার বিশ্বাস সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাবো, আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে। কাঁটাতারের বেড়ায় বিভক্ত দুই দেশের সীমান্তে আর‌ কোনও মানুষকে যেন গু‌লিতে জীবন দিতে না হয়।’২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী। ভারতের ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত ফেলানীর মরদেহ কাঁটাতারেই ঝুলে থাকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা। পরে ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশের ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোতে সমালোচনার ঝড় তোলে। সে সময় গণমাধ্যম এবং বিজিবির দাবির মুখে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়। ফেলানীর বাবা দু’দফা বিএসএফের আদালতে সাক্ষী দিয়ে এলেও ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। রায় পুনর্বিবেচনার বিজিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মামলার পুনর্বিচারে আবারও অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিশেষ আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here