বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রত্যয় বিশ্বাসের লেখা প্রবন্ধ “রাষ্ট্রীয় ভাবনায় বঙ্গবন্ধু”

0
24
 রাষ্ট্রীয় ভাবনায় বঙ্গবন্ধু ( প্রত্যয় বিশ্বাস ) বিশ্ব সম্মোহনীদের তালিকায় সর্বাগ্রে আছেন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু অভিন্ন।সকল অর্থে তিনিই বাংলাদেশ। সারাটা জীবন চেষ্টা করেছেন বাঙালির দুঃখ, বেদনা,আনন্দ, স্বপ্ন,সাহস নিজের মধ্যে ধারণ করার।তিলে তিলে গড়ে তুলেছে আমাদের স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ। বাঙালির জাতীয়তার উন্মেষের চেষ্টা করেছেন বাটংবার।পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। সারাটা জীবন কাজ করে গেছেন বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য।নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বদ্ধপরিকর। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালে ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।১৯২৭সালে ৭ বছর বয়সে তিনি স্থানীয় গিমাডাঙ্গা সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।১৯২৯ সালে ১০বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল এবং পরে তিনি মিশনারী স্কুলে ভর্তি হন।১৯৪২ সালে এন্টাস বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে।কলকাতর ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।১৯৪৮সালে দেশে ফিরে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।শৈশব থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ দেখে নিজের ভেতরে এক প্রকার কষ্ট অনুভব করতেন।শীত কালটা এলেই তিনি অনেক অসহায় শীতার্ত মানুষকে নিজের গাঁয়ের চাদর দান করে দিয়েছেন। তখন থেকেই তিনি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতেন।অন্যায় কিংবা অন্যায়কারী যতই শক্তিশালী হোক না কেন জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রতিরোধ করতে তিনি কখনো বিন্দু মাত্র বিচলিত হতেন না। ১৯৪৮সালে দেশ ভাগের পর তিনি পূর্ব পাকিস্থানে ফিরে আসেন। তিনি পূর্ব পাকিস্থানে খাদ্য সংকট,দারিদ্র্যতা, কেন্দ্রের সাথে রাজনৈতিক দূরত্ব দেখে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।তিনি বুঝতে পারেন যে,ধর্মের নামে পাকিস্থান গঠনের নামে পূর্ব বাংলার জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তখন তিনি পূর্ব পাকিস্থান মুসলিম লীগের ব্যনারে ছাত্রদের সংগঠিত করেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারিদের আন্দোলনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন।১৯৪৯ সালে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত করা হয় তবে তিনি কখনো বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে অনুকম্পা প্রার্থনা করেন নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে যুক্ত হয়েছিলেন।বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সংগ্রামে ছাত্র-জনতা কে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৪৮ সালে ১১ই মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি না দেওয়ার জন্য তিনি পাকিস্থানি চক্রান্তের শিকার হয়ে গ্রেফতার হন।তাকে ১১ই মার্চ হরতাল চলাকালীন সময়ে সচিবালয়ে সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়।১৯৫২ সালে ২৬জানুয়ারী খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন। পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।এ ঘোষণার প্রতিবাদে কারাগারে থাকা অবস্থায় ২১শে ফেব্রুয়ারী কে রাজবন্দী মুক্তি এবং বাংলা কে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি হিসেবে পালন করার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকার রাজপথে মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন রফিক, শফিক, জব্বার,বরকত সহ নাম না জানা আরো অনেকেই।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলে বসে এর তীব্র নিন্দা জানান এবং ১৩ দিন অনশন পালন করেন। পূর্ব পাকিস্থানের জনগণ প্রথম থেকেই পশ্চিম পাকিস্থান কর্তৃক শাসন, শোষন,অনিয়ম,অত্যাচারের স্বীকার হয়ে আসছিলো।তাই বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬দফা দাবি উথাপন করা হয়। ৬দফা দাবিকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়। ১৯৬৬ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্থান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে আসামী করে মোট ৩৫জনের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করে। ১৯৬৯সালের ৫ জানুয়ারি ৬দফা সহ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এ পরিষদ আগরতলা মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।২২শে ফেব্রুয়ারি সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।২৩ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে ‘কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম ‘ পরিষদ আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।শেখ মুজিবুর রহমান আয়ুব খান কে গোল টেবিল বৈঠকে যোগদানের কথা ঘোষণা করেন এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্খা বৃদ্ধি পায়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব বাংলার জাতীয় পরিষদে ১৬২ টি এলাকা ভিত্তিক আসনের মধ্যে ১৬০ টি তে জয়লাভ করে। আবার প্রাদেশিক পরিষদের মোট ৩০০টি এলাকা ভিত্তিক আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টিতে জয় লাভ করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে ১৮ মিনিটের এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।জনতার মহাসমুদ্রের সামনে দাড়িয়ে তিনি বজ্রকন্ঠে ঘোষণা দেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ” “এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম” পরবর্তীতে অসহযোগ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে।২৫ শে মার্চ মধ্য রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তথাকথিত অপারেশন সার্চ লাইট নামে নিরস্ত্র বাঙালি জাতির উপর অতর্কিত হামলা চালায়। রাত ১২টা ৩০মিনিটে বঙ্গবন্ধু কে নিজ বাস ভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়।পূবেই তিনি ১২টা ২০মিনিটে অর্থ্যাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

 

Chat conversation end

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here